আইনগত সহায়তা প্রদান প্রবিধানমালা, ২০০১

[২৪ মে, ২০০১]

এস, আর, ও নং ১৩১-আইন/২০০১-আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০ (২০০০ সনের ৬ নং আইন) এর ধারা ২৪ এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, নিম্নরূপ প্রবিধানমালা প্রণয়ন করিল, যথাঃ-

১।সংক্ষিপ্ত শিরোনাম এই প্রবিধানমালা আইনগত সহায়তা প্রদান প্রবিধানমালা, ২০০১ নামে অভিহিত হইবে।

২।সংজ্ঞা- বিষয় বা প্রসংগের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই প্রবিধানমালায়

(ক)“আইন” অর্থ আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০ (২০০০ সনের ৬ নং আইন);

(খ)“আবেদনকারী” অর্থ সহায়তা প্রাপ্তির উদ্দেশ্যে যে ব্যক্তি সংস্থা বা, ক্ষেত্রমত, জেলা কমিটি বরাবরে আবেদন করিয়াছেন;

(গ)“নির্ধারিত” অর্থ সংস্থা বা জেলা কমিটি কর্তৃক নির্ধারিত;

(ঘ)“সহায়তা” অর্থ আইনগত সহায়তা।

৩।আইনগত সহায়তার জন্য আবেদন, ইত্যাদি-

(১) সহায়তা পাওয়ার উদ্দেশ্যে কোন ব্যক্তি তাহার নাম, পূর্ণ ঠিকানা এবং সহায়তা চাওয়ার কারণ উল্লেখ করিয়া [সংস্থা কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে নির্ধারিত ফরমে বা একটি সাদা কাগজে] আবেদন করিবেন।

(২) যে বিষয়ে সহায়তা চাওয়া হইতেছে উহা সুপ্রীমকোর্টের কোন বিভাগে বিচারের বিষয় হইলে সংস্থার চেয়ারম্যান এবং অন্যান্য আদালতের বিচারের বিষয় হইলে জেলা কমিটির চেয়ারম্যান এর নিকট আবেদন করিতে হইবে।

[(২ক)-উপ-প্রবিধান (২) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সুপ্রীম কোর্টের অনিষ্পন্ন জেল আপীল মামলা পরিচালনার জন্য আইনজীবী নিয়োগ করা হইলে উক্ত মামলা পরিচালনার ব্যাপারে সংস্থা প্রয়োজনীয় বলে বিবেচিত আনুষঙ্গিক সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে এবং অনুরূপ মামলায় আইনগত সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে প্রবিধান ৩ এর মাধ্যমে কোন আবেদনপত্র দাখিলের প্রয়োজন হইবে না।]

(৩)উপ-প্রবিধান (১) অনুসারে কোন আবেদন দাখিল করা হইলে সংস্থা বা, ক্ষেত্রমত, জেলা কমিটি উহাতে একটি নম্বর প্রদান করিয়া নির্ধারিত রেজিষ্টারে আবেদনপত্রের বিবরণ লিপিবদ্ধ করিবে, আবেদনকারীকে একটি প্রাপ্তি রশিদ প্রদান করিবে এবং আবেদনপত্রটির উপর সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য সংস্থা বা জেলা কমিটির অব্যবহিত পরবর্তী সভায় উপস্থাপনের ব্যবস্থা করিবে।

(৪) আবেদনে উল্লিখিত তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সম্ভব না হইলে সংস্থা বা জেলা কমিটি প্রয়োজনীয় বলিয়া বিবেচিত অতিরিক্ত তথ্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরবরাহের জন্য আবেদনকারীকে পরামর্শ দিতে পারিবে।

(৫) সংস্থা বা জেলা কমিটির সভায় উপস্থাপিত কোন আবেদন বিবেচিত হইয়া সহায়তা প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হইলে তৎমর্মে সংস্থা বা জেলা কমিটি কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে আবেদনকারীকে অবহিত করা হইবে।

৪। তালিকাভুক্ত আইনজীবীগণের মধ্য হইতে আইনজীবী মনোনয়ন উপ-প্রবিধান ৩(৫) এর অধীন সিদ্ধান্ত গৃহীত হইলে সংশ্লিষ্ট মামলা পরিচালনার জন্য সংস্থা বা, ক্ষেত্রমত, জেলা কমিটি আইনের অধীন তালিকাভুক্ত আইনজীবীগণের মধ্য হইতে অন্যূন ৩ (তিন) জন আইনজীবীকে মনোনীত করিবে, যাহাদের মধ্য হইতে আবেদনকারীর সম্মতি সাপেক্ষে একজন আইনজীবীকে মামলা পরিচালনার জন্য নিযুক্ত করা হইবে।

৫। আইনজীবী কর্তৃক অনুসরণীয় বিষয়াবলী

(১) আইনজীবী মামলা পরিচালনার জন্য আবেদনকারীর নিকট হইতে কোন ফি বা খরচাদি দাবী করিবেন না।

(২)প্রবিধান ৪ এর অধীন নিযুক্ত আইনজীবী সংশ্লিষ্ট মামলার একটি প্রতিবেদন প্রতি তিন মাস অন্তর সংস্থা বা জেলা কমিটি বরাবরে প্রেরণ করিবে।

৬। আইনজীবীগণের প্রাপ্য ফি-এর হার নির্ধারণ, ইত্যাদি

(১) মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে আইনজীবীগণ নিম্নবর্ণিত হারে ফি প্রাপ্য হইবেন, যথাঃ-

(ক) সুপ্রীমকোর্ট ব্যতীত অন্যান্য আদালতে দেওয়ানী ও পারিবারিক মামলায় –

(১) আরজি ও আপীল স্মারক প্রস্তুতের জন্য সর্বোচ্চ ১৫০০/- টাকা; তৎসহ প্রদত্ত প্রকৃত কোর্ট ফি (এ্যাডভেলোরেম কোর্ট ফি ব্যতীত), তৎসহ আনুষঙ্গিক খরচ সর্ব্বোচ্চ ৩০০/- টাকা;

(২) লিখিত জবাব প্রস্তুতের জন্য সর্বোচ্চ ১৫০০/- টাকা;

(৩) ছানী মামলার দরখাস্ত বা আপত্তি প্রস্তুতের জন্য সর্বোচ্চ ৮০০/- টাকা;

(৪) অন্তর্বতী (Interlocutory0029 দরখাস্ত বা এতদ্সংক্রান্ত আপত্তি প্রস্তুতের জন্য সর্বোচ্চ ৮০০/- টাকা।

(৫) সাধারণ দরখাস্ত (সময়ের দরখাস্ত ব্যতীত) প্রস্তুতের জন্য সর্বোচ্চ ২০০/- টাকা;

(৬) সাক্ষ্য গ্রহণের (চূড়ান্ত শুনানী) ক্ষেত্রে,

(অ) পারিবারিক মামলার জন্য সাকুল্যে সর্বোচ্চ ৭০০/- টাকা;

(আ) দেওয়ানী মামলার জন্য সাকুল্যে সর্বোচ্চ ১০০০/- টাকা;

(৭) যুক্তিতর্ক বা আপীল মামলা শুনানীর জন্য সর্বোচ্চ ৮০০/- টাকা;

(৮) সময়ের দরখাস্ত ব্যতিরেকে বিভিন্ন জরুরী দরখাস্ত শুনানীর জন্য সর্বোচ্চ ৩০০/- টাকা;

(৯) সোলেনামা দরখাস্ত প্রস্তুতের জন্য সর্বোচ্চ ৫০০/- টাকা;

(১০) ডিক্রি জারি মামলা প্রস্তুত ও নিষ্পত্তির জন্য সর্বোচ্চ ৫০০/- টাকা;

(১১) হাজিরা দাখিলের জন্য সর্বোচ্চ ৫০/- টাকা।

(খ) সুপ্রীমকোর্ট ব্যতীত অন্যান্য আদালতে ফৌজদারী মামলায়-

(১) এফ,আই,আর/জিডি প্রস্তুতের জন্য সর্বোচ্চ ২০০/- টাকা;

(২) আরজির মুসাবিদা ও আপীল স্মারক প্রস্তুত এবং শুনানীর জন্য সর্বোচ্চ ৭০০/- টাকা, তৎসহ আনুষঙ্গিক সর্বোচ্চ ১০০/- টাকা;

(৩) রিভিশন দরখাস্ত প্রস্তুত ও এ্যাডমিশন শুনানীর জন্য সর্বোচ্চ ৪০০/- টাকা;

(৪) রিভিশন দরখাস্ত চূড়ান্ত শুনানীর জন্য সর্বোচ্চ ৩০০/- টাকা;

(৫) নারাজি দরখাস্ত প্রস্তুত ও শুনানীর জন্য সর্বোচ্চ ৩০০/- টাকা;

(৬) অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানীর জন্য সর্বোচ্চ ৩০০/- টাকা;

(৭) জামিনের দরখাস্ত প্রস্তুত ও শুনানীর জন্য সর্বোচ্চ ৩০০/- টাকা;

(৮) জামিননামা প্রস্তুত ও দাখিলের জন্য সর্বোচ্চ ২০০/- টাকা;

(৯) সময়ের দরখাস্ত ব্যতিরেকে বিভিন্ন জরুরী দরখাস্ত শুনানীর জন্য সর্বোচ্চ ২০০/- টাকা;

(১০) সাক্ষ্য গ্রহণের ক্ষেত্রে সাকুল্যে সর্বোচ্চ ৮০০/- টাকা;

(১১) যুক্তিতর্ক বা আপীল মামলা শুনানীর জন্য সর্বোচ্চ ৫০০/- টাকা;

(১২) ফৌজদারী মিস মামলার দরখাস্ত প্রস্তুত ও শুনানীর জন্য সর্বোচ্চ ৩০০/- টাকা;

(১৩) হাজিরা দাখিলের জন্য সর্বোচ্চ ৫০/- টাকা;

(গ) সুপ্রীমকোর্টে মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে আইনজীবীগণ সর্বোচ্চ ৩০০০/- টাকা ফি প্রাপ্য হইবেন।

(২) উপ-প্রবিধান (১) এর প্রাপ্য ফি সুপ্রীম কোর্ট ব্যতীত অন্য কোন আদালতে মামলা পরিচালনা বাবদ পরিশোধযোগ্য হইলে উহার বিল সংশ্লিষ্ট আদালত কর্তৃক প্রত্যায়িত হইতে হইবে।

(৩) উপ-প্রবিধান (১) এর দফা (গ) এর অধীন প্রাপ্য ফি সুপ্রীম কোর্ট-এর মামলা পরিচালনা বাবদ পরিশোধযোগ্য হইলে উহার বিল সংশ্লিষ্ট আইনজীবী সংস্থা কর্তৃক, সময় সময়, নির্ধারিত ফরম পূরণক্রমে, সমন্বয়কের মাধ্যমে, সুপ্রীম কোর্টের রেজিষ্ট্রার বরাবরে দাখিল করিবেন।

ব্যাখ্যাঃ এই উপ-ধারায় উল্লিখিত সমন্বয়ক বলিতে সুপ্রীম কোর্টের প্যানেল আইনজীবীগণের মধ্য হইতে সংস্থা কর্তৃক মনোনীত আইনজীবী সমন্বয়ককে বুঝাইবে।

(৪)উপ-প্রবিধান (৩) এর অধীন কোন বিল সুপ্রীম কোর্টের রেজিষ্ট্রারের নিকট দাখিলকৃত হইলে তিনি তাঁহার মনোনীত কোন কর্মকর্তা দ্বারা উক্ত বিল পরীক্ষান্তে প্রত্যায়নপূর্বক সংস্থা বরাবরে প্রেরণ করিবেন।

(৫) সংস্থা বা, ক্ষেত্রমত, জেলা কমিটি কর্তৃক কোন মামলায় কোন আইনজীবী নিযুক্ত করা হইলে মামলা পরিচালনায় প্রাথমিক খরচ নির্বাহের জন্য অগ্রীম খরচ বাবদ ৫০০.০০(পাঁচ শত) টাকা সংশ্লিষ্ট আইনজীবীকে প্রদান করা যাইবে এবং অগ্রীম খরচ বাবদ প্রদত্ত অর্থ আইনজীবীর বিল পরিশোধের সময় সমন্বয় করা হইবে।

(৬)উপ-প্রবিধান (১) (ক) এ উল্লিখিত বিষয়ে কোন বিল আংশিকভাবে পরিশোধ করা যাইবে।

৭। সংস্থা বা জেলা কমিটির ব্যয় নির্বাহ-

(১) আইনের ধারা ১৩ এবং ১৪ এর বিধান অনুসারে আইনগত সহায়তা প্রদানের নিমিত্ত আইনজীবীর ফি এবং অগ্রীম ফি, জেল আপীল মামলা পরিচালনার জন্য প্রদেয় ফি, সুপ্রীম কোর্টের অন্য কোন মামলা পরিচালনার নিমিত্ত ফি এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যয় সংস্থা বা জেলা কমিটির তহবিল হইতে নির্বাহ করা হইবে।

(২) আইনের ধারা ৭ এর দফা (গ), (ঘ), (চ) এবং (ছ) এর উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের নিমিত্ত আইনগত সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে সংস্থা, সময় সময়, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উহার তহবিল হইতে জাতীয় পরিচালনা বোর্ডের অনুমোদনক্রমে প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহ করিতে পারিবে।

(৩) জেলা কমিটি উপ-প্রবিধান (১) এ বর্ণিত ব্যয় ব্যতীত আনুষঙ্গিক অন্য সকল ব্যয়ের ক্ষেত্রে প্রতি অর্থ বৎসরে সংস্থার জাতীয় পরিচালনা বোর্ড কর্তৃক বরাদ্দকৃত অর্থের শতকরা ১৫ (পনের) ভাগের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করিতে পারিবে নাঃ

তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত অর্থের শতকরা ৭ (সাত) ভাগ জেলা কমিটি প্রচার প্রচারণাসহ সেমিনার, কর্মশালা, সিম্পোজিয়াম, এবং এতদ্সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য ব্যয় করিতে পারিবে।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *